রসালো ফলে ফরমালিন আতঙ্ক
তবে বাহারি রঙের এসব মৌসুমি ফল কিনতে ভোক্তাদের মধ্যে রয়েছে ফরমালিন আরও কেমিক্যাল আতঙ্ক।
বিক্রেতা ইচ্ছে করলে নিজ উদ্যোগে ফলে কেমিক্যাল ব্যবহার করা আছে কি না তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট হতে পরীক্ষা করে রাখতে পারেন। কিন্তু এটা বাড়তি ঝামেলা মনে করেন ফল ব্যবসায়ীরা। তাই তাদের উদ্যোগ নেই।
আবার যথাযথ প্রচার না থাকায় অধিকাংশ ফল ব্যবসায়ির জানা নেই। মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেয়া হচ্ছে উদ্যোগ। জনসচেতনতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
জানা গেছে, বর্তমানে ঝিনাইদহ জেলা উপজেলার হাট বাজারগুলোতে মৌসুমের শুরুতেই ফল আসতে শুরু করেছে। বাজারে নতুন ফল এসেছে তাই চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে বেশি দাম পেতে অধিকাংশ বাগান মালিক ফল ব্যবসায়িদের নিকট বিক্রি করে দিয়েছে। আর অসাধু ফল ব্যবসায়িরা অধীক লাভ পেতে গাছে ফল থাকতেই বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন।
বেশি মাত্রাই কেমিক্যাল ব্যবহার করার কারণে কয়েক দিনের মধ্যেই অপরিপক্ক ফল পাকা রঙ দেখাচ্ছে। এই সব ফল অসাধু ব্যবসায়িরা বাজারজাত করছে। আবার পরিপক্ক ফলেও আগেরমত স্বাদ পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগিরা।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ঘোড়শাল গ্রাম থেকে আসা ফল ক্রেতা রফিক বাংলামেইলকে বলেন, ‘দেখেই তো ফল কিনতে ইচ্ছে করে। তবে এতে ফরমালিন বা কার্বাইড মেশানো আছে কি না তা তো পরীক্ষা করা নেই। তাই কিনতে দ্বিধা হয়।’
একই সুরে হলিধানী গ্রামের মামুন বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে ফিরছি। ভাবছি কিছু লিচু কিনে নিয়ে যাবো। কেমিক্যাল মেশানো থাকলে তো সমস্যা। কি করবো ভাবছি।’
শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর গ্রামের সুমন বিশ্বাস বলেন, ‘অসাধু ফল ব্যবসায়ীরা ফলে কার্বাইড মেশাচ্ছে। সে কারণে ফল কিনতে ভয় পাচ্ছি। মৌসুমী ফল দেখলে তো কিনতে ইচ্ছে হয়। কিন্তু সে আশায় বালি দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। একটু বেশি মুনাফার জন্য তারা এ ধরণের কাজ করছে।’
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জেলার হলিধানি বাজারের ফল বিক্রেতা ঝন্টু মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে মৌসুমি ফলের ব্যবসা করছি। তবে আগে মানুষ যে ভাবে কোনো প্রকার প্রশ্ন না করে ফল কিনে নিয়ে যেত। কিন্তু এখন আর সে ভাবে সাধারণ ফল কেনে না। ফলে কোনো প্রকার কেমিক্যাল ব্যবহার না করলেও নানা প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়।
তিনি আরো জানান, আমি আমার পাশের গ্রাম থেকে প্রতিটি লিচু প্রায় ১.৫ টাকা করে কিনে আনছি। আর বিক্রি করছি ২ টাকা। তার পরও পরিচিত জনের নানা প্রশ্ন। কোনো প্রকার ফরমালিন বা কার্বাইড মেশানো হয় না।
কালিগঞ্জ উপজেলার ফল ব্যবসায়ি রফিকুল ইসলাম জানান, আমি এখানে কয়েক যুগ ধরে ফল ব্যবসা করে আসছি। আগে কোনো প্রকার প্রশ্ন না করেই ক্রেতা ফল কিনে নিত। কিন্তু এখন সমস্যা একটাই কেমিক্যাল। আমরা তো কোনো কেমিক্যাল মেশাই না। যেখান থেকে কিনে আনি সেখানে প্রসাশনের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেয়া হলে ভালো হয়।






0 comments:
Post a Comment